মহাবিশ্বের প্রাথমিক অবস্থা কেমন ছিল ?

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ

মহাবিশ্বের প্রাথমিক অবস্থা কেমন ছিল ।। পবিত্র কুরআনের সাক্ষ্য

আমাদের মহাবিশ্ব মূলত অসীম এর শুরু কিংবা শেষ প্রান্ত বিজ্ঞানীদের কাছে এখনও অজানা আছে বর্তমানে আমরা মহাবিশ্বকে যে রকম দেখি, মহাবিশ্বের ঊষালগ্নে এর প্রকৃতি কিন্তু এরকম ছিল না, এটি ছিল অনেকটাই আলাদা।

এখন মহাবিশ্ব সৃষ্টির সবচেয়ে গ্রহনযোগ্য হচ্ছে বিগ তত্ত্ব বিগ ব্যাং মহাবিস্ফোরণের পর মুহূর্তে হাইড্রোজেন, হিলিয়াম কিংবা আয়োনিত গ্যাস মত মৌল তৈরি হয়েছিল এটা সকল বিজ্ঞানী একমত । পরে এসকল গ্যাস থেকে বিভিন্ন ভাবে রুপান্তরিত হয়ে বর্তমান মহাবিশ্বের এই বিবর্তিত রূপ ।

মহাকাশ নিয়ে সম্পূর্ণ নতুন ধারনা নিয়ে আসেন এডুইন হাবল হাবল টেলিস্কপ এর মাধ্যমে মহাকাশের নতুন দিগন্ত আবিষ্কৃত হয়

নীহারিকা বা নেবুলা হচ্ছে একপ্রকার মহাজাগতিক মেঘ। ‘নেবুলা’ শব্দের অর্থ মেঘ। এই বিশেষ মেঘ গঠিত হয় ধুলো আর গ্যাসের সংমিশ্রণে। বিজ্ঞানীরা বলছেন মহাকাশের শূন্যস্থানকে শূন্য বলা হলেও সেখানে একবারে শূন্যতা নেই মহাশূন্যে আছে গ্যাস আর ধূলিকণা, যাদের কে একত্রে আন্তঃনাক্ষত্রিক উপাদান (Interstellar Medium) বলে। এই উপাদানের শতকরা ৯৯ ভাগ গ্যাস দিয়ে গঠিত। যার মধ্যে শতকরা প্রায় ৭৫ ভাগ হাইড্রোজেন আর ২৫ ভাগ হিলিয়াম।

ধূলিকর্ণা, হাইড্রোজেন গ্যাস ও প্লাজমা দ্বারা গঠিত আন্তঃনাক্ষত্রিক মেঘই হচ্ছে এই নীহারিকা। আর এই নীহারিকা থেকেই নক্ষত্র বা তারা জন্মে এক্ষেত্রে গ্রাভিটি ধূলিকণা এবং অন্যান্য গ্যাসীয় কণাগুলো একত্রিত হয়ে ধীরে ধীরে গঠন করে নক্ষত্র এবং তারা। আর সূর্য নামক নক্ষত্র থেকেই আমরা আমাদের পৃথিবীতে আলো পেয়ে আসছি । আর নক্ষত্র থেকে গ্রহ বা উপগ্রহ সৃষ্টি হয় । তাহলে দেখা গেল মাহাবিশ্বের প্রাথমিক অবস্থায় গ্যাসীয় ছিল তার প্রমান এখনও সুস্পষ্ট । হাবল টেলিস্কোপ এর মাধ্যমে অনেক নেবুলার ছবি তোলা আছে । প্রতিটি নেবুলা গড় ব্যাস কয়েক শত আলোক বর্ষ হয়ে থাকে । তবে নেবুলার মধ্যেই কেবল যে গ্যাস বা ধূলিকণা সীমাবদ্ধ তা নয় মহাশূন্যের প্রায় সর্বত্রেই এদের উপস্থিতি লক্ষ করা যায় ।

তবে মজার ব্যাপার হলো প্রথম নেবুলা সনাক্ত করে পার্সিয়ান মুসলিম বিজ্ঞানী আবদ আল-রহমান আল সুফি ,তিনিই নেবুলাকে তারার ক্লাস্টার থেকে পৃথক করেছিলেন । তিনি আমাদের পাাশের ছায়াপথ এন্ড্রোমিডা কে বলেছিলেন এটি একটি ছোট মেঘের খন্ড পরে অবশ্য এটি যে একটি ছায়াপথ পরে শক্তিশালী অনুবীক্ষণ যন্ত্র দ্বারা প্রমাণিত হয়েছিল  (তিনি তারা বই “বুক ওফ ফিক্সড স্টার’স’’ এর তুলে ধরেছেন )।

নীচে কিছু নেবুলা বা নীহারিকার ছবি দেওয়া হলো এগুলো ; এগুলো সবটাই দেখতে মেঘের মত কারন এদের এরা আন্তঃনাক্ষত্রিক গ্যাসীয় উপাদান দ্বারা গঠিত ।


নাম : ঈগল নেবুলা / NASA, ESA/Hubble



নাম: বাবল নেবুলা / NASA, ESA/Hubble

নাম : হর্সহেড নেবুলা / NASA, ESA/Hubble




মহান আল্লাহ্ পবিত্র কুরআনে বলেন -


অতঃপর তিনি আকাশের দিকে মনোনিবেশ করেন, যা ছিল ধূম্রপুঞ্জবিশেষ ...(৪১:১১)

এখানে আরবী শব্দ “দুখান’’ যার অর্থ ধোঁয়া । অর্থাৎ মহান আল্লাহ্ ইঙ্গিত করেছেন এই মহাবিশ্বের প্রাথমিক অবস্থায় গ্যাসীয় বা ধূম্রপুঞ্জবিশেষ ছিল ।

নবী মুহাম্মদ সা: এর মাধ্যমে এই আয়াতটি নাযিল করেছিল প্রায় ১৪৫০ বছর আগে কিন্তু মানুষ মহাবিশ্বের অবস্থা জানতে শুরু করেছে মাত্র ১০০ বছর আগে (সুবহানাল্লাহ্)।

 

 

আলোক বর্ষ দূরত্বের পরিমাণ প্রায় ৯৪৬১০০০০০০০০০ কিলোমিটার বা ৯.৫ ট্রিলিয়ন কিলোমিটার বা ৫.৯ ট্রিলিয়ন মাইল।

 

অতি সংক্ষিপ্ত :

মোহাম্মদ মুদ্দাচ্ছির ইসলাম পাটওয়ারী

B.Sc in Environmental Science ( NSTU )

M.Sc in WRD (BUET) [Appeared]

My Twitter_Account

 


Comments

Popular posts from this blog

চাঁদের নিজস্ব আলো নেই ।

মহাবিশ্বের সম্প্রসারণশীলতা।

সূর্য ঘূর্ণয়মান ।