চাঁদের নিজস্ব আলো নেই ।
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ
চাঁদের নিজস্ব আলো নেই ।। পবিত্র কুরআনের সাক্ষ্য
ছোট
এক শিশুকে যখন তার মা চাঁদের আলোতে নিয়ে এসে তাকে চাঁদের গল্প শোনায় তখন তখন যদি তাকে
এ কথা বলা হয় চাঁদ তার নিজ থেকে আলো ছড়াচ্ছে তাহলে সে অকপটে তা বিশ্বাস করবে । আর বিশ্বাস
করবেই না কেন ? কারন তার তো এ সমন্ধে ভাল কোন জ্ঞান নেই কিংবা এখনও অর্জিত হয় নি ।
সে শুধু চিনে মায়ের ভালবাসা আর খাবার আর এ মুহূর্তে আর অন্য কিছু তার দরকার নেই ।
![]() |
| মা তার শিশুর সাথে চাঁদের গল্প করছে । |
ঠিক
আজ থেকে প্রায় ১৪০০ বছর আগে নবী মুহাম্মদ (সা:) পবিত্র কুরআন নিয়ে এসেছিলেন তখনকার
মানুষের উদ্দেশ্য ছিল শুধু খাবার ও সন্তান উৎপাদন , ব্যবসা , যুদ্ধবিগ্রহ আর অলৌকিক
বিশ্বাস স্থাপন ।তখনকার যুগে বিজ্ঞানের কোন ধারণা ছিল না । আমরা জানি ঐ সময়ের মানুষেরা
নক্ষত্র , রবি ও চন্দ্রের উপর ব্যাপক বিশ্বাস ছিল । তারা সূর্যকে দেখলে তার রোদের প্রখরতার
কারনে তাকে রব বলে সিজদা করত ঠিত তেমনি চাঁদের বেলাও অনুরূপ ছিল । তাদের এ কথা মোটেই
ধারণা ছিলনা যে , রাত্রের বেলায় চাঁদ পৃথিবীর পিছনে গিয়ে তার উপর সূর্যের আলো পড়ার
কারনে আমরা চাঁদ দেখি কিংবা এর কারনে দিন দিন সে বড় হয়ে আবার অদৃশ্য হয়ে যায় (চিত্র
: ০১ ও ০২)।
![]() |
| চিত্র : ০১ |
![]() |
| চিত্র : ০২ |
আর
তখনকার আরব মুশরিকেরা অপবাদ দিয়ে বলত নবী মুহম্মাদ (সা:) নিজে কুরআন রচনা করে তা মানুষের
কাছে বলত । কিন্তু মুহাম্মদ (সা:) এর উপর মহান আল্লাহ্ এর পক্ষ হতে ফেরশতা জীবরাঈল
(আ:) যা নিয়ে আসত তিনি তাই বলতেন ।
যদি
নবী মুহাম্মদ (সা:) নিজে কুরআন রচনা করতেন তাহলে তাতে অসংখ্য ভূল কিংবা অসঙ্গতি থাকত
। যার ফলে আধুনিক যুগে এই কিতাব মিথ্যা বলে প্রমাণিত হত ।
প্রাচীন
সভ্যতা গুলোতে বিশ্বাস করা হত যে চাঁদের নিজস্ব আলো আছে, কিন্তু বর্তমানে আধুনিক বিজ্ঞান
থেকে আমরা জানতে পারি যে চাঁদের নিজস্ব কনো আলো নেই। চাঁদের আলো হচ্ছে প্রতিফলিত আলো।
এখন কোরআনে চাঁদ এবং সূর্য সম্পর্কিত কয়েকটি আয়াত লক্ষ্য করি, পবিত্র কোরআনে আল্লাহ্
তাআলা বলেন- “কল্যাণময় তিনি, যিনি নভোমন্ডলে রাশিচক্র সৃষ্টি করেছেন এবং তাতে রেখেছেন
সূর্য ও দীপ্তিময় চন্দ্র।”[২৫:৬১]
“তিনিই
সে মহান সত্তা, যিনি বানিয়েছেন সুর্যকে উজ্জল আলোকময়, আর চন্দ্রকে স্নিগ্ধ আলো বিতরণকারীরূপে,,,,,,,,”[১০:৫]
“তোমরা
কি লক্ষ্য কর না যে, আল্লাহ কিভাবে সপ্ত আকাশ স্তরে স্তরে সৃষ্টি করেছেন। এবং সেখানে
চন্দ্রকে রেখেছেন আলোরূপে এবং সূর্যকে রেখেছেন প্রদীপরূপে।”[৭১:১৫-১৬]
আরবি
ভাষায় সূর্যকে বুঝাতে “শামস” শব্দটি ব্যাবহৃত হয়। আবার “সিরাজ
(২৫:৬১ ,৭১:১৬)” শব্দটি দিয়েও সূর্যকে বুঝানো হয়ে থাকে, যার অর্থ হলো বাতি বা
মশাল। আবার অন্য জায়গায় সূর্যকে বুঝানোর জন্য “দিয়া (১০:০৫)”
ব্যাবহার করা হয়েছে। যার অর্থ হলো “উজ্জ্বল জ্যোতি”। তিনটি বর্ণনার সবগুলোই
সূর্যের জন্য উপযোগী, কারন সূর্য নিজেই দহন ক্রিয়ার মাধ্যমে প্রচন্ড তাপ উৎপন্ন করে।
এবার
চাঁদের কথায় আসা যাক, চাঁদের আরবি প্রতিশব্দ হলো “ক্বামার , কোরআনে চাঁদকে বুঝাতে “মুনীর(২৫:৬১ ,১০:০৫ , ৭১:১৬)” শব্দটিও উল্লেখ করা হয়েছে,
যার অর্থ হচ্ছে “স্নিগ্ধ আলোদানকারী”। স্রষ্টা মহান আল্লাহ দুটির ক্ষেত্রে দু'ধরনের
আলো হিসেবে উপস্থাপন করলেন কেন? কারণ এগুলো যিনি সৃষ্টি করেছেন তিনি তো এ দুটো আলোর
পার্থক্য ভাল করেই অবগত আছেন। তাই প্রথমত সহজভাবে দুটোকে দুই ধরনের আলো হিসেবে উপস্থাপনের মাধ্যমে যারা সত্যান্বেষী তাদের
দৃষ্টি আকর্ষণ করার পাশাপাশি এনিয়ে চিন্তা-গবেষণা করার জন্য উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে।
চাঁদ হচ্ছে একটি নিষ্ক্রিয় উপগ্রহ যার নিজের কোন
আলো নেই, চাঁদ সূর্যের আলোকে প্রতিফলিত করে মাত্র। চাঁদের প্রকৃতির সাথে কোরআনের বর্ণনা
হুবহু মিলে যায়।
মোহাম্মদ
মুদ্দাচ্ছির ইসলাম পাটওয়ারী
B.Sc in Environmental Science ( NSTU )
M.Sc in WRD (BUET) [Continuing ]



Comments
Post a Comment